রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
সাপের বিষে প্রাণ হারাচ্ছে রোগীরা, ভ্যাকসিন জরুরি!
অনলাইন ডেস্ক
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বড় পলাশবাড়ি ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের ইসরাইল উদ্দীন। তার ছোট ছেলে, ৫ম শ্রেণির ছাত্র সাকিবুল ইসলামকে বিষধর সাপে কামড় দেয়। চিকিৎসার জন্য চার হাসপাতালে যাওয়া হলেও ভ্যাকসিন মেলেনি। পরে দিনাজপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে রাস্তায় মারা যায় তার ছেলে।
শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে তার ছেলেকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। ছেলের মৃত্যুর শোকে অসুস্থ মা, যার চিকিৎসা চলছে দুদিন ধরে। শোকের ছায়া নেমেছে পুরো গ্রামে।
ইসরাইল উদ্দীন জানান, চারটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি—বালিয়াডাঙ্গী থেকে হরিপুর, এরপর ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল। সেখানেও ভ্যাকসিন না পেয়ে রাত ১০টার দিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। সেখানে ও ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। অবশেষে দিনাজপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার ছেলে কোলে মারা যায়। বাবা হয়ে ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি। আর যেন কোনো বাবার বুক খালি না হয়।
জানা গেছে, স্কুলছাত্র সাকিবুলের মতো ঠাকুরগাঁও জেলায় গত দুই সপ্তাহে পীরগঞ্জের ৭ম শ্রেণির ছাত্র তারেক, রাণীশংকৈলের কলেজছাত্র মোকসেদ আলী, হরিপুরের গৃহবধূ শম্পা রানীসহ ৫ জন বিষধর সাপের কামড়ে মারা গেছে।
মারা যাওয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে সাপের বিষমুক্তিকরণ ভ্যাকসিন এন্টিভেনম না থাকায় এসব রোগী প্রাণ হারাচ্ছে।
শম্পা রাণীর স্বামী জিতেন বলেন, সকালে সাপে কামড়ানোর পর হরিপুর, রাণীশংকৈল এবং শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি, কিন্তু ভ্যাকসিন পাইনি। নিরুপায় হয়ে ওঝার কাছে নিয়ে গেছি। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি। দেড় বছরের ছোট সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আজমুল হক বলেন, বর্ষার সময়ে প্রতি বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় ১০-১৫ জন সাপে কামড়ে মারা যায়। এরপর হাসপাতালগুলো ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠায়। কিন্তু যখন ভ্যাকসিন পৌঁছায়, বর্ষা শেষ হয়ে যায়। স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে বর্ষার আগেই ভ্যাকসিন মজুত রাখা।
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান বলেন, চাহিদা পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এন্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারেও এন্টিভেনম সংকট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করে চলেছি ভ্যাকসিন নিয়ে আসার।